Skip to content
Tame Academy
Corporate Governance

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্পোরেট গভর্নেন্স আলাদা কেন

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গভর্নেন্স কেন সাধারণ তালিকাভুক্ত কোম্পানির চেয়ে কঠোর, বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত তদারকি এবং ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়ার ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।

Md. Mehedi Hasan, LLB, ACS

05 October 2026 · 5 min read · 7 views

Text size:
Share:
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্পোরেট গভর্নেন্স আলাদা কেন
In This Article
  1. কেন ব্যাংকের ঝুঁকি একটি সাধারণ কোম্পানির চেয়ে আলাদা
  2. দ্বৈত তদারকি: বিএসইসি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক একসাথে
  3. ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় গভর্নেন্সের ভূমিকা
  4. ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি: ব্যাংকের একটি বিশেষ কাঠামো
  5. ব্যাংকিং খাতে গভর্নেন্সের সাধারণ ভুল
  6. বাস্তব কেস স্টাডি
  7. উপসংহার

আমাদের সিরিজে আগে আমরা দেখেছি পারিবারিক কোম্পানিতে গভর্নেন্সের গুরুত্ব। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে গভর্নেন্সের গুরুত্ব আরও এক স্তর বেশি, কারণ এখানে ঝুঁকিতে থাকে শুধু শেয়ারহোল্ডারের টাকা নয়, বরং লাখো আমানতকারীর সঞ্চয়। এই লেখায় আমরা দেখব কেন ব্যাংকিং খাতের গভর্নেন্স সাধারণ তালিকাভুক্ত কোম্পানির চেয়ে কাঠামোগতভাবে আলাদা এবং কঠোর।

Ad space (reserved)

কেন ব্যাংকের ঝুঁকি একটি সাধারণ কোম্পানির চেয়ে আলাদা

একটি সাধারণ উৎপাদন কোম্পানি ব্যর্থ হলে তার প্রভাব মূলত শেয়ারহোল্ডার, কর্মী ও সরবরাহকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু একটি ব্যাংক ব্যর্থ হলে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে লাখো আমানতকারী, অন্য ব্যাংক এবং পুরো আর্থিক ব্যবস্থার ওপর, যাকে অর্থনীতিতে সিস্টেমিক ঝুঁকি বলা হয়। এই কারণেই ব্যাংকের গভর্নেন্স ব্যর্থতার সামাজিক খরচ একটি সাধারণ কোম্পানির তুলনায় বহুগুণ বেশি।

  • আমানতকারীর স্বার্থ। শেয়ারহোল্ডারের পাশাপাশি লাখো সাধারণ আমানতকারীর সঞ্চয়ও সরাসরি জড়িত।
  • সংক্রমণের ঝুঁকি। একটি ব্যাংকের সংকট দ্রুত অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
  • লিভারেজের মাত্রা। ব্যাংক তার নিজের মূলধনের তুলনায় বহুগুণ বেশি অর্থ ঋণ ও বিনিয়োগে ব্যবহার করে, যা ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

A quick story

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঋণ অনুমোদন কমিটিতে একজন প্রভাবশালী পরিচালকের পরিবারের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান বড় অঙ্কের ঋণের জন্য আবেদন করে। সাধারণ ঋণ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সেই প্রতিষ্ঠানের নগদ প্রবাহ ঋণ পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না, কিন্তু পরিচালকের প্রভাবে ঋণটি অনুমোদিত হয়। কয়েক বছর পর প্রতিষ্ঠানটি ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ে, এবং তদন্তে দেখা যায় একই ধরনের সম্পর্কিত ঋণ আরও কয়েকটি ছিল, যা একসাথে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের একটি বড় অংশ তৈরি করেছিল। এই ঘটনা দেখায়, ব্যাংকে পরিচালকের সাথে সম্পর্কিত পক্ষের ঋণ কতটা সতর্কতার সাথে তদারকি করা জরুরি, কারণ এখানে ক্ষতির পরিমাণ একক কোম্পানির তুলনায় অনেক বড় হতে পারে।

দ্বৈত তদারকি: বিএসইসি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক একসাথে

তালিকাভুক্ত একটি ব্যাংককে একই সাথে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকিতে থাকতে হয়। বিএসইসির কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড-২০১৮ সব তালিকাভুক্ত কোম্পানির মতো ব্যাংকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, কিন্তু এর পাশাপাশি ব্যাংক কোম্পানি আইন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব সার্কুলারের অধীনে বাড়তি নির্দেশনা মানতে হয়। এই বাড়তি নির্দেশনার মধ্যে থাকে পরিচালকদের ঋণ সম্পর্কিত বিশেষ শর্ত, পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ সীমা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির মতো বিশেষায়িত কাঠামো, যা সাধারণ উৎপাদন বা সেবা কোম্পানিতে বাধ্যতামূলক নয়।

“বোর্ডের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ (১/৫) সদস্য স্বাধীন পরিচালক হতে হবে, এবং কোনো ভগ্নাংশ এলে তা পরবর্তী পূর্ণসংখ্যায় উন্নীত করতে হবে।”

— BSEC Corporate Governance Code, 2018, Condition No. 1(2)

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, ব্যাংকের বোর্ডে স্বাধীন পরিচালক কেন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ?

কারণ ব্যাংকের ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় পরিচালক বা তার পরিবারের সাথে সম্পর্কিত পক্ষের ঋণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। একজন স্বাধীন পরিচালক এই ধরনের লেনদেনে নিরপেক্ষভাবে প্রশ্ন তুলতে পারেন, যা আমানতকারীদের অর্থের সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর তৈরি করে।

ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় গভর্নেন্সের ভূমিকা

একটি সুস্থ ব্যাংকিং ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়ার স্তর
শাখা পর্যায়ে ঋণ প্রস্তাব ও মূল্যায়ন শাখা পর্যায়ে ঋণ প্রস্তাব ও মূল্যায়ন স্বতন্ত্র ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের পর্যালোচনা স্বতন্ত্র ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের পর্যালোচনা ঋণ কমিটি বা বোর্ডের অনুমোদন ঋণ কমিটি বা বোর্ডের অনুমোদন বিতরণ পরবর্তী তদারকি ও পুনঃমূল্যায়ন বিতরণ পরবর্তী তদারকি ও পুনঃমূল্যায়ন
Category Step
শাখা পর্যায়ে ঋণ প্রস্তাব ও মূল্যায়ন 1
স্বতন্ত্র ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের পর্যালোচনা 2
ঋণ কমিটি বা বোর্ডের অনুমোদন 3
বিতরণ পরবর্তী তদারকি ও পুনঃমূল্যায়ন 4

একটি সুস্থ গভর্নেন্স কাঠামোয় ঋণ প্রস্তাব ও ঋণ অনুমোদন পৃথক বিভাগের হাতে থাকে, যাতে একই ব্যক্তি বা বিভাগ পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ স্বতন্ত্রভাবে প্রতিটি বড় ঋণ প্রস্তাব পর্যালোচনা করে, এবং বোর্ড বা ঋণ কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। পরিচালক বা তার পরিবারের সাথে সম্পর্কিত কোনো ঋণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরিচালক আলোচনা ও ভোট থেকে বিরত থাকেন, যা স্বার্থের সংঘাত এড়াতে সাহায্য করে।

Ad space (reserved)

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি: ব্যাংকের একটি বিশেষ কাঠামো

সাধারণ তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য কোড-২০১৮ মূলত অডিট কমিটি ও নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটি বাধ্যতামূলক করে, কিন্তু ব্যাংকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় একটি পৃথক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটিও প্রয়োজন হয়। এই কমিটি ঋণ ঝুঁকি, তারল্য ঝুঁকি, বাজার ঝুঁকি এবং পরিচালনগত ঝুঁকি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করে এবং বোর্ডকে সতর্ক করে, যা একটি সাধারণ উৎপাদন কোম্পানিতে এই মাত্রায় প্রয়োজন হয় না।

A quick story

একটি মাঝারি আকারের ব্যাংক দ্রুত ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি নির্দিষ্ট খাতে অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ করতে শুরু করে, যা তার মোট ঋণ পোর্টফোলিওর একটি বড় অংশে পরিণত হয়। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি একটি প্রান্তিক পর্যালোচনায় লক্ষ্য করে, এই একক খাতে ঝুঁকির মাত্রা স্বাভাবিক সীমার চেয়ে অনেক বেশি হয়ে গেছে, এবং বোর্ডকে তা অবিলম্বে জানায়। বোর্ড তখন নতুন ঋণ বিতরণে অস্থায়ী সীমা আরোপ করে এবং বিদ্যমান ঋণগুলো পুনর্মূল্যায়ন করে, যা সেই খাতে পরবর্তী মন্দার সময় ব্যাংকটিকে বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, একটি ব্যাংকের গভর্নেন্স দুর্বল হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন আসলে কারা?

সাধারণ ধারণার বিপরীতে, শুধু শেয়ারহোল্ডার নয়, বরং সাধারণ আমানতকারীরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন, কারণ তাদের সঞ্চয়ই ব্যাংকের মূল তহবিলের বড় অংশ তৈরি করে। এই কারণেই ব্যাংকের গভর্নেন্সকে শুধু একটি কোম্পানির অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, একটি জনস্বার্থের বিষয় হিসেবে দেখা হয়।

ব্যাংকিং খাতে গভর্নেন্সের সাধারণ ভুল

Common Mistakes Companies Make

  1. 1

    পরিচালকের সাথে সম্পর্কিত পক্ষকে অতিরিক্ত সহজে ঋণ দেওয়া

    প্রভাবশালী পরিচালকের প্রভাবে স্বাভাবিক ঋণ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শিথিল হলে খেলাপি ঋণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

  2. 2

    একক খাত বা গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত ঋণ কেন্দ্রীভূত করা

    ঝুঁকি বৈচিত্র্যকরণ না থাকলে একটি খাতের মন্দা পুরো ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্যকে বিপন্ন করতে পারে।

  3. 3

    ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগকে ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রার চাপে নিষ্ক্রিয় রাখা

    দ্রুত প্রবৃদ্ধির চাপে ঝুঁকি বিভাগের সতর্কতা উপেক্ষা করলে দীর্ঘমেয়াদে বড় ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়।

  4. 4

    পরিচালনা পর্ষদে পারিবারিক বা রাজনৈতিক প্রভাব অতিরিক্ত বাড়তে দেওয়া

    স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ কমে গেলে ঋণ অনুমোদনে বাণিজ্যিক যুক্তির বদলে সম্পর্কভিত্তিক সিদ্ধান্ত বেড়ে যায়।

বাস্তব কেস স্টাডি

Case Study

সম্পর্কিত পক্ষের ঋণ কেন্দ্রীভবনের দৃষ্টান্তমূলক দৃশ্যকল্প

Scenario: একটি দৃষ্টান্তমূলক কাল্পনিক দৃশ্যকল্প, যেখানে একটি ব্যাংকের কয়েকজন পরিচালক তাদের নিজস্ব ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধারাবাহিকভাবে বড় অঙ্কের ঋণ দিয়ে আসছিলেন।

Problem: কয়েক বছরের মধ্যে এই সম্পর্কিত ঋণ ব্যাংকের মোট ঋণ পোর্টফোলিওর একটি উল্লেখযোগ্য অংশে পরিণত হয়, এবং অর্থনৈতিক মন্দার সময় এই গোষ্ঠীর একাধিক প্রতিষ্ঠান একসাথে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, যা ব্যাংকের তারল্য সংকট তৈরি করে।

Solution: বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পর ব্যাংকটি পরিচালক-সম্পর্কিত ঋণের জন্য একটি পৃথক সীমা ও স্বাধীন পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চালু করে, এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সরাসরি বোর্ডের কাছে রিপোর্ট করার ক্ষমতা দেওয়া হয়।

Case Study

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির সক্রিয় হস্তক্ষেপের দৃষ্টান্তমূলক সাফল্যের দৃশ্যকল্প

Scenario: একটি দৃষ্টান্তমূলক কাল্পনিক দৃশ্যকল্প, যেখানে একটি ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি একটি নির্দিষ্ট আমদানি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি লক্ষ্য করে।

Problem: ব্যবসায়িক বিভাগ দ্রুত প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে এই ঋণ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ছিল, এবং স্বল্পমেয়াদি মুনাফার চাপে ঝুঁকি উপেক্ষা করার একটি প্রবণতা তৈরি হচ্ছিল।

Solution: কমিটি স্বাধীনভাবে বোর্ডের কাছে একটি পৃথক ঝুঁকি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে, যার ভিত্তিতে বোর্ড সেই খাতে নতুন ঋণে সাময়িক সীমা আরোপ করে, এবং পরবর্তী বছরে সেই খাতে বাজার মন্দা আসলেও ব্যাংকটি তুলনামূলক কম ক্ষতির মুখে পড়ে।

উপসংহার

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গভর্নেন্স শুধু একটি কোম্পানির অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটি পুরো আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার সাথে জড়িত, যে কারণে এখানে দ্বৈত তদারকি ও বিশেষায়িত কাঠামো প্রয়োজন হয়। গভর্নেন্স ও ম্যানেজমেন্টের পার্থক্য এখানে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ ব্যাংকে দুর্বল গভর্নেন্সের পরিণতি কয়েক গুণ বেশি গুরুতর। পরের লেখায় আমরা দেখব সিএসআরের সাথে গভর্নেন্সের সম্পর্ক।

FAQ

ব্যাংকের গভর্নেন্স সাধারণ কোম্পানির চেয়ে কঠোর কেন?

কারণ ব্যাংকের ব্যর্থতা শুধু শেয়ারহোল্ডার নয়, লাখো আমানতকারী ও পুরো আর্থিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে, যাকে সিস্টেমিক ঝুঁকি বলা হয়।

ব্যাংক কি একই সাথে বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকিতে থাকে?

হ্যাঁ, তালিকাভুক্ত ব্যাংক বিএসইসির কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব নির্দেশনা, দুটোই একসাথে মানতে বাধ্য।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি আর অডিট কমিটির পার্থক্য কী?

অডিট কমিটি মূলত আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষা নিয়ে কাজ করে, আর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি ঋণ, তারল্য ও বাজার ঝুঁকির মতো বিষয় নিয়মিত পর্যালোচনা করে।

পরিচালকের সাথে সম্পর্কিত পক্ষকে ঋণ দেওয়া কি নিষিদ্ধ?

সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ না হলেও কঠোর শর্ত ও স্বতন্ত্র পর্যালোচনা প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালক অনুমোদনের আলোচনায় ভোট দিতে পারেন না।

বীমা কোম্পানির গভর্নেন্সও কি একইভাবে আলাদা?

হ্যাঁ, বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রেও বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অতিরিক্ত নির্দেশনা প্রযোজ্য হয়, ব্যাংকের মতোই একটি দ্বৈত তদারকি কাঠামো থাকে।

একক খাতে ঋণ কেন্দ্রীভবন কেন ঝুঁকিপূর্ণ?

একটি খাতে মন্দা এলে সেই খাতের সব ঋণগ্রহীতা একসাথে সমস্যায় পড়তে পারেন, যা ব্যাংকের জন্য একটি বড় ঝুঁকি কেন্দ্রীভূত করে ফেলে।

আমানতকারী হিসেবে আমি কীভাবে বুঝব একটি ব্যাংকের গভর্নেন্স নিরাপদ?

ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে খেলাপি ঋণের হার, স্বাধীন পরিচালকের সংখ্যা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক কি সরাসরি ব্যাংকের বোর্ডে হস্তক্ষেপ করতে পারে?

গুরুতর পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন বা প্রশাসক নিয়োগের মতো ব্যবস্থা নিতে পারে, যা একটি সাধারণ কোম্পানির ক্ষেত্রে বিএসইসির সরাসরি ক্ষমতার চেয়ে ভিন্ন।

ছোট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্যও কি একই মাত্রার গভর্নেন্স প্রয়োজন?

আকার অনুযায়ী কাঠামোর জটিলতা কম হতে পারে, কিন্তু মূল নীতি, যেমন স্বাধীন তদারকি ও ঝুঁকি পর্যালোচনা, সব আকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Key Points

  • ●ব্যাংকের ব্যর্থতার প্রভাব শেয়ারহোল্ডারের বাইরে লাখো আমানতকারী ও পুরো আর্থিক ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়তে পারে, যাকে সিস্টেমিক ঝুঁকি বলা হয়।
  • ●তালিকাভুক্ত ব্যাংক একই সাথে বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক, দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকিতে থাকে।
  • ●ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রস্তাব, স্বতন্ত্র ঝুঁকি পর্যালোচনা এবং অনুমোদন পৃথক স্তরে রাখা জরুরি।
  • ●ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি ব্যাংকের একটি বিশেষায়িত কাঠামো, যা সাধারণ কোম্পানিতে এই মাত্রায় প্রয়োজন হয় না।
  • ●পরিচালকের সাথে সম্পর্কিত পক্ষের ঋণ কেন্দ্রীভবন ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে সাধারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ গভর্নেন্স সমস্যা।
  • ●একক খাত বা গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত ঋণ কেন্দ্রীভবন ঝুঁকি বৈচিত্র্যকরণের মূলনীতি লঙ্ঘন করে।
  • ●আমানতকারী হিসেবে খেলাপি ঋণের হার ও স্বাধীন পরিচালকের সংখ্যা পর্যালোচনা করলে ব্যাংকের গভর্নেন্সের প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।

Related Articles