ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কেন কর্পোরেট গভর্নেন্সের একটি মূল স্তম্ভ
আর্থিক, অপারেশনাল, কমপ্লায়েন্স ও প্রতিপত্তিগত ঝুঁকি বোর্ড কীভাবে তদারকি করে এবং কেন এটি গভর্নেন্সের অবিচ্ছেদ্য অংশ তার আলোচনা।
Md. Mehedi Hasan, LLB, ACS
03 October 2026 · 3 min read · 7 views
In This Article
OECD এর মূল চার স্তম্ভের পাশাপাশি, আধুনিক কর্পোরেট গভর্নেন্স আলোচনায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে গণ্য করা হয়। চার স্তম্ভের প্রতিটিই আসলে একভাবে ঝুঁকি মোকাবিলার সাথে সম্পর্কিত, তবে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আলাদাভাবে বোঝা জরুরি, কারণ এটি বোর্ডের একটি সুনির্দিষ্ট, চলমান দায়িত্ব।
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কী?
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা হলো প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে বাধা হতে পারে এমন সম্ভাব্য ঘটনা চিহ্নিত করা, তার সম্ভাবনা ও প্রভাব মূল্যায়ন করা এবং তা মোকাবিলার জন্য পূর্ব পরিকল্পনা নেওয়ার প্রক্রিয়া। এটি কোনো একবারের কাজ নয়, বরং একটি চলমান চক্র, যেখানে নতুন ঝুঁকি দেখা দিলে তা নিয়মিত চিহ্নিত ও মূল্যায়ন করতে হয়।
কেন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা গভর্নেন্সের অংশ?
বোর্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি হলো প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ঝুঁকির মাত্রা তদারকি করা। যদি বোর্ড ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত না থাকে, বা ঝুঁকি মূল্যায়নের কোনো নিয়মিত প্রক্রিয়া না থাকে, তাহলে দায়বদ্ধতার স্তম্ভও আসলে অর্থহীন হয়ে পড়ে, কারণ বোর্ড এমন সিদ্ধান্তের জন্য জবাবদিহি করতে পারে না যা সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই।
A quick story
একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি মুদ্রায় লেনদেন করছিল, কিন্তু কখনো বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি নিয়ে আলাদা কোনো আলোচনা করেনি, কারণ বছরের পর বছর বিনিময় হার স্থিতিশীল ছিল। একবার আকস্মিকভাবে স্থানীয় মুদ্রার বড় অবমূল্যায়ন ঘটলে প্রতিষ্ঠানটির আমদানি ব্যয় রাতারাতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, এবং তাদের কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না। এই ঘটনার পর বোর্ড একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে, যারা নিয়মিতভাবে বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি পর্যালোচনা করতে শুরু করে।
ঝুঁকির প্রধান প্রকারভেদ
প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকিকে মূলত কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। আর্থিক ঝুঁকি, যেমন সুদের হার বা বিনিময় হারের পরিবর্তন। কমপ্লায়েন্স ঝুঁকি, যেমন আইন বা নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা না মানার ফলে জরিমানা বা মামলার ঝুঁকি। অপারেশনাল ঝুঁকি, যেমন উৎপাদন ব্যবস্থায় বিভ্রাট বা প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা। আর প্রতিপত্তিগত ঝুঁকি, যেমন কোনো ঘটনার কারণে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। প্রতিটি ধরনের জন্য আলাদা মোকাবিলা পরিকল্পনা প্রয়োজন।
আপনার প্রতিষ্ঠান কি জানে, গত বছর তাদের সবচেয়ে বড় তিনটি ঝুঁকি কী ছিল?
অনেক প্রতিষ্ঠানেই এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর থাকে না, কারণ ঝুঁকি নিয়ে কথা বলা হয় কেবল কোনো সমস্যা হওয়ার পরে, আগে থেকে নয়। একটি সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি নিবন্ধ তৈরি করে নিয়মিত তা পর্যালোচনা করাই এই সমস্যার সমাধান, এবং এটি অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সাথেও সরাসরি সম্পর্কিত। বিস্তারিত পড়তে পারেন অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও গভর্নেন্স পোস্টে।
| Category | Value |
|---|---|
| আর্থিক ঝুঁকি | 1 |
| কমপ্লায়েন্স ঝুঁকি | 1 |
| অপারেশনাল ঝুঁকি | 1 |
| প্রতিপত্তিগত ঝুঁকি | 1 |
প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা
ভুল ধারণা ১, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা মানে সব ঝুঁকি এড়িয়ে যাওয়া। বাস্তবে ব্যবসা করতে গেলে কিছু ঝুঁকি নিতেই হয়, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য হলো কোন ঝুঁকি কতটা নেওয়া যুক্তিসঙ্গত তা সচেতনভাবে নির্ধারণ করা।
ভুল ধারণা ২, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শুধু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়। প্রতিটি খাতের প্রতিষ্ঠানেই নিজস্ব ধরনের ঝুঁকি থাকে, তা উৎপাদন হোক বা সেবা, ঝুঁকি মূল্যায়ন সব ক্ষেত্রেই সমান প্রয়োজনীয়।
উপসংহার
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্পোরেট গভর্নেন্সের মূল চার স্তম্ভকে বাস্তবে কার্যকর রাখার একটি অপরিহার্য হাতিয়ার। পুরো কাঠামো একসাথে দেখতে পড়ুন কর্পোরেট গভর্নেন্সের চার স্তম্ভ, এবং এর সাথে সম্পর্কিত অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে পড়ুন অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও গভর্নেন্স।
FAQ
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি কী করে?
এই কমিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ঝুঁকিগুলো নিয়মিত চিহ্নিত করে, তার সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করে এবং মোকাবিলার পরিকল্পনা বোর্ডের কাছে উপস্থাপন করে।
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের পার্থক্য কী?
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ঝুঁকি চিহ্নিত ও মূল্যায়ন করে, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ সেই ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য দৈনন্দিন প্রক্রিয়া ও নিয়ম প্রতিষ্ঠা করে।
ছোট প্রতিষ্ঠানে কি আলাদা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রয়োজন?
বড় আকারের আলাদা কমিটি না থাকলেও, বোর্ডের নিয়মিত আলোচনায় ঝুঁকি একটি স্থায়ী বিষয় হিসেবে থাকা জরুরি।
প্রতিপত্তিগত ঝুঁকি কীভাবে পরিমাপ করা হয়?
সরাসরি সংখ্যায় পরিমাপ করা কঠিন, তবে গণমাধ্যমে আলোচনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া এবং গ্রাহক আস্থার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে ধারণা পাওয়া যায়।