Skip to content
Tame Academy
Corporate Governance

২০০৬ সালের গাইডলাইন থেকে ২০১৮ কোড: কী বদলেছে

বাংলাদেশের ২০০৬ সালের ঐচ্ছিক গাইডলাইন আর ২০১৮ সালের পূর্ণাঙ্গ BSEC কর্পোরেট গভর্নেন্স কোডের মধ্যে ঠিক কী কী মৌলিক পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

Md. Mehedi Hasan, LLB, ACS

03 October 2026 · 4 min read · 7 views

Text size:
Share:
২০০৬ সালের গাইডলাইন থেকে ২০১৮ কোড: কী বদলেছে
In This Article
  1. ২০০৬ গাইডলাইনের মূল কাঠামো, কী ছিল
  2. ২০১৮ কোডে কী নতুন যোগ হলো
  3. নয়টি মূল ক্ষেত্র, ২০১৮ কোডের কাঠামো
  4. বাস্তবে এর প্রভাব
  5. উপসংহার

বাংলাদেশের কর্পোরেট গভর্নেন্স ইতিহাসে দুটি তারিখ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, ২০০৬ এবং ২০১৮। প্রথমটি ছিল একটি সতর্ক, স্বেচ্ছামূলক সূচনা, আর দ্বিতীয়টি একটি পরিণত, বিস্তারিত কাঠামো। পুরো যাত্রাপথ জানতে পড়তে পারেন বাংলাদেশে কর্পোরেট গভর্নেন্সের যাত্রা শীর্ষক লেখাটি। এই লেখায় আমরা নির্দিষ্টভাবে দেখব এই দুই দলিলের মধ্যে আসলে কী কী মৌলিক পার্থক্য তৈরি হয়েছে।

২০০৬ গাইডলাইনের মূল কাঠামো, কী ছিল

২০০৬ সালের গাইডলাইন ছিল তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত এবং মূলত কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে কেন্দ্রীভূত, যেমন বোর্ডে ন্যূনতম সংখ্যক স্বাধীন পরিচালক থাকা, একটি অডিট কমিটি গঠন করা এবং চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর ভূমিকা স্পষ্ট করা। এর বেশিরভাগ শর্তই ছিল কমপ্লাই অর এক্সপ্লেইন ভিত্তিক, অর্থাৎ কোম্পানি চাইলে ব্যাখ্যা দিয়ে অনেক শর্ত এড়িয়ে যেতে পারত।

২০১৮ কোডে কী নতুন যোগ হলো

২০১৮ সালের কোডে বেশ কয়েকটি একেবারে নতুন উপাদান যুক্ত হয়, যা ২০০৬ সালের গাইডলাইনে ছিল না। এর মধ্যে অন্যতম হলো নমিনেশন ও রেমুনারেশন কমিটি বা এনআরসি গঠনের বাধ্যবাধকতা, যা পরিচালক নিয়োগ ও পারিশ্রমিক নির্ধারণের প্রক্রিয়াকে আরও কাঠামোবদ্ধ করে। এছাড়া কোম্পানি সচিব, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা এবং হেড অফ ইন্টারনাল অডিটের নিয়োগ ও যোগ্যতা সুনির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়, সাবসিডিয়ারি কোম্পানির সাথে সম্পর্ক পরিচালনার নিয়ম যুক্ত করা হয় এবং সিইও ও সিএফওর একটি আলাদা ঘোষণাপত্র দেওয়ার বিধান চালু করা হয়।

A quick story

একজন কল্পিত কোম্পানি সচিবের কথা ভাবুন, যিনি একই প্রতিষ্ঠানে ২০০৬ সাল থেকে কাজ করছেন। ২০০৬ সালের চেকলিস্টে তার হাতে ছিল মাত্র কয়েকটি বিষয়, স্বাধীন পরিচালক সংখ্যা আর অডিট কমিটির উপস্থিতি যাচাই করলেই কাজ শেষ। ২০১৮ সালে এসে তাকে একটি অনেক দীর্ঘ চেকলিস্ট নিয়ে কাজ করতে হয়, যেখানে এনআরসি কমিটির কার্যবিবরণী, সাবসিডিয়ারি গভর্নেন্স এবং সিইও-সিএফও ঘোষণাপত্রের মতো একেবারে নতুন অনুচ্ছেদ যোগ হয়েছে। তার কাছে এই পরিবর্তনটাই সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ যে কোডটি কতটা পরিণত হয়েছে।

আপনি কি জানেন কেন নমিনেশন ও রেমুনারেশন কমিটি এত গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ছিল?

২০০৬ সালের গাইডলাইনে পরিচালক নিয়োগ এবং পারিশ্রমিক নির্ধারণের প্রক্রিয়া অনেকটাই অস্পষ্ট ছিল, যা পরিবারতান্ত্রিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করত। একটি আলাদা, স্বাধীন সদস্য সমন্বিত এনআরসি কমিটি থাকলে নিয়োগ ও পারিশ্রমিকের সিদ্ধান্ত অনেক বেশি স্বচ্ছ ও বস্তুনিষ্ঠ প্রক্রিয়ায় নেওয়া সম্ভব হয়, যা ২০১৮ কোডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

Ad space (reserved)

নয়টি মূল ক্ষেত্র, ২০১৮ কোডের কাঠামো

২০১৮ সালের BSEC কোডকে মোটাদাগে নয়টি বড় ক্ষেত্রে ভাগ করা যায়, বোর্ডের গঠন ও স্বাধীন পরিচালক, চেয়ারম্যান ও সিইওর দায়িত্ব পৃথকীকরণ, অডিট কমিটি, নমিনেশন ও রেমুনারেশন কমিটি, কোম্পানি সচিব ও সিএফও নিয়োগ, সাবসিডিয়ারি কোম্পানির সম্পর্ক, সিইও-সিএফও ঘোষণাপত্র, প্রতিবেদন ও প্রকাশনা, এবং সামগ্রিক কমপ্লায়েন্স রিপোর্টিং। এই পূর্ণাঙ্গ কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত পাবেন আমাদের কর্পোরেট গভর্নেন্স কী তা নিয়ে মূল লেখায়।

২০১৮ সালের BSEC কোডের নয়টি মূল ক্ষেত্র
বোর্ড গঠন: 1 চেয়ারম্যান-সিইও পৃথকীকরণ: 1 অডিট কমিটি: 1 এনআরসি কমিটি: 1 সিএস-সিএফও নিয়োগ: 1 সাবসিডিয়ারি সম্পর্ক: 1 সিইও-সিএফও ঘোষণাপত্র: 1 প্রতিবেদন প্রকাশনা: 1 কমপ্লায়েন্স রিপোর্টিং: 1
Category Value
বোর্ড গঠন 1
চেয়ারম্যান-সিইও পৃথকীকরণ 1
অডিট কমিটি 1
এনআরসি কমিটি 1
সিএস-সিএফও নিয়োগ 1
সাবসিডিয়ারি সম্পর্ক 1
সিইও-সিএফও ঘোষণাপত্র 1
প্রতিবেদন প্রকাশনা 1
কমপ্লায়েন্স রিপোর্টিং 1
বিষয়২০০৬ গাইডলাইন২০১৮ কোড
প্রকৃতিমূলত স্বেচ্ছামূলক, কমপ্লাই অর এক্সপ্লেইনঅনেক শর্ত বাধ্যতামূলক, বাকিগুলো কমপ্লাই অর এক্সপ্লেইন
এনআরসি কমিটিউল্লেখ ছিল নাবাধ্যতামূলক আলাদা কমিটি
সিইও-সিএফও ঘোষণাপত্রউল্লেখ ছিল নাআলাদা ঘোষণাপত্র বাধ্যতামূলক
সাবসিডিয়ারি গভর্নেন্সবিস্তারিত নির্দেশনা ছিল নাআলাদা অনুচ্ছেদে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা

বাস্তবে এর প্রভাব

২০১৮ কোড কার্যকর হওয়ার পর তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বার্ষিক প্রতিবেদন অনেক বেশি বিস্তারিত এবং কাঠামোবদ্ধ হয়ে উঠেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি তথ্য পান পরিচালক নিয়োগ প্রক্রিয়া, সম্পর্কিত পক্ষের লেনদেন এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পর্কে। তবে নিয়ম কাগজে থাকা আর বাস্তবে কার্যকরভাবে পালিত হওয়া, এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান এখনো একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

A quick story

একজন বিনিয়োগ বিশ্লেষকের কথা ভাবুন, যিনি ২০১৯ সালে একটি সদ্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদন পড়ছেন। তিনি লক্ষ্য করেন যে ২০১৮ কোড অনুযায়ী কোম্পানিটি এনআরসি কমিটির কার্যবিবরণী এবং সিইও-সিএফওর ঘোষণাপত্র স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে, যা কয়েক বছর আগে হলে হয়তো উল্লেখই থাকত না। এই বাড়তি তথ্য তাকে কোম্পানির ঝুঁকি মূল্যায়নে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

আপনি কি মনে করেন শুধু নতুন নিয়ম যোগ করলেই গভর্নেন্স উন্নত হয়ে যায়?

না, শুধু নিয়ম যোগ করাই যথেষ্ট নয়। ২০১৮ কোডের প্রকৃত মূল্য তখনই বোঝা যাবে, যখন কোম্পানিগুলো এই নিয়মগুলো আন্তরিকভাবে পালন করবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা কার্যকরভাবে তদারকি করবে। নইলে একটি বিস্তারিত কোডও কাগজে-কলমের বাধ্যবাধকতায় সীমাবদ্ধ থেকে যেতে পারে।

উপসংহার

২০০৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত বাংলাদেশের কর্পোরেট গভর্নেন্স কাঠামো একটি সাধারণ, স্বেচ্ছামূলক গাইডলাইন থেকে একটি বিস্তারিত, অনেকাংশে বাধ্যতামূলক কোডে রূপান্তরিত হয়েছে। এই পরিবর্তনের পুরো প্রেক্ষাপট জানতে পড়ুন বাংলাদেশে কর্পোরেট গভর্নেন্সের যাত্রা শীর্ষক লেখাটি।

FAQ

২০০৬ গাইডলাইন আর ২০১৮ কোডের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য কী?

২০১৮ কোডে অনেক শর্ত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং এনআরসি কমিটি, সিইও-সিএফও ঘোষণাপত্রের মতো একেবারে নতুন উপাদান যুক্ত হয়েছে, যা ২০০৬ গাইডলাইনে ছিল না।

এনআরসি কমিটি কী কাজ করে?

নমিনেশন ও রেমুনারেশন কমিটি পরিচালক নিয়োগ এবং তাদের পারিশ্রমিক নির্ধারণের প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করে।

২০১৮ কোড কি সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক?

না, এর অনেক অংশ এখনো কমপ্লাই অর এক্সপ্লেইন ভিত্তিতে তৈরি, তবে ২০০৬ গাইডলাইনের তুলনায় বাধ্যতামূলক অংশের পরিধি অনেক বেড়েছে।

এই পরিবর্তনগুলো কি বিনিয়োগকারীদের উপকারে এসেছে?

হ্যাঁ, বার্ষিক প্রতিবেদনে এখন অনেক বেশি কাঠামোবদ্ধ তথ্য প্রকাশিত হয়, যা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি মূল্যায়নে সহায়তা করে।

Related Articles