Skip to content
Tame Academy
Corporate Governance

বাংলাদেশে কর্পোরেট গভর্নেন্সের যাত্রা: ১৯৯৭ থেকে ২০১৮

১৯৯৬-৯৭ সালের শেয়ারবাজার ধস থেকে শুরু করে ২০০৬ সালের গাইডলাইন হয়ে ২০১৮ সালের BSEC কোড পর্যন্ত বাংলাদেশের কর্পোরেট গভর্নেন্স যাত্রার গল্প।

Md. Mehedi Hasan, LLB, ACS

03 October 2026 · 4 min read · 8 views

Text size:
Share:
বাংলাদেশে কর্পোরেট গভর্নেন্সের যাত্রা: ১৯৯৭ থেকে ২০১৮
In This Article
  1. ১৯৯৬-৯৭, শেয়ারবাজার ধস এবং সংস্কারের প্রথম তাগিদ
  2. ২০০৬ সালের SEC গাইডলাইন, প্রথম আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ
  3. ২০১২ সালের নোটিফিকেশন, কিছু শর্ত বাধ্যতামূলক হলো
  4. ২০১৮ সালের BSEC কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড, পূর্ণাঙ্গ কাঠামো
  5. এই যাত্রা থেকে কী শিক্ষা পাওয়া যায়
  6. উপসংহার

বাংলাদেশের কর্পোরেট গভর্নেন্সের গল্পটি একটি শেয়ারবাজার সংকট দিয়ে শুরু, আর শেষ হয় একটি পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রক কাঠামোয়। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই দশকের এই যাত্রায় বাংলাদেশ ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে। বড় প্রেক্ষাপটের জন্য পড়তে পারেন বিশ্বে কর্পোরেট গভর্নেন্সের ইতিহাস শীর্ষক লেখাটি।

১৯৯৬-৯৭, শেয়ারবাজার ধস এবং সংস্কারের প্রথম তাগিদ

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৩ সালে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মধ্যেই, ১৯৯৬ সালে ঢাকার শেয়ারবাজারে একটি বড় ধরনের ধস নামে, যেখানে কৃত্রিমভাবে ফুলিয়ে তোলা শেয়ারের দাম হঠাৎ ধসে পড়ে এবং হাজার হাজার সাধারণ বিনিয়োগকারী বিপুল অর্থ হারান। এই ঘটনা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা এবং তদারকির ঘাটতি নিয়ে প্রথমবারের মতো ব্যাপক জাতীয় আলোচনার জন্ম দেয়।

A quick story

কল্পনা করুন নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি একজন ছোট ব্যবসায়ীর কথা, যিনি তার দোকানের সঞ্চিত পুঁজি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন, প্রতিবেশীদের কাছে শোনা লাভের গল্পে উৎসাহিত হয়ে। বাজার ধসে পড়ার পর তিনি বুঝতে পারেন না ঠিক কী কারণে এত দ্রুত তার পুঁজি শেষ হয়ে গেল। এমন অসংখ্য মানুষের একই অভিজ্ঞতা থেকেই পরবর্তী বছরগুলোতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর চাপ তৈরি হয় আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক একটি কাঠামো তৈরির জন্য।

২০০৬ সালের SEC গাইডলাইন, প্রথম আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ

প্রায় এক দশকের আলোচনার পর ২০০৬ সালে তৎকালীন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন একটি নোটিফিকেশনের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্পোরেট গভর্নেন্স গাইডলাইন জারি করে। এটি মূলত কমপ্লাই অর এক্সপ্লেইন ভিত্তিতে তৈরি ছিল, অর্থাৎ কোম্পানিকে পুরোপুরি বাধ্য না করে সুপারিশ অনুসরণ করতে বলা হয়, আর না করলে কারণ জানাতে বলা হয়। এই গাইডলাইন এবং ২০১৮ সালের কোডের মধ্যে ঠিক কী পার্থক্য তৈরি হয়েছে তা বিস্তারিত পাবেন ২০০৬ থেকে ২০১৮, কী বদলেছে শীর্ষক লেখায়।

আপনি কি জানেন ২০০৬ সালের গাইডলাইন কেন বাধ্যতামূলক করা হয়নি?

তখনকার নিয়ন্ত্রকরা মনে করেছিলেন বাংলাদেশের পুঁজিবাজার তখনো নতুন ধরনের কড়া নিয়ম একসাথে গ্রহণ করার মতো পরিণত হয়নি। তাই যুক্তরাজ্যের Cadbury Report থেকে অনুপ্রাণিত কমপ্লাই অর এক্সপ্লেইন মডেল অনুসরণ করে কোম্পানিগুলোকে ধীরে ধীরে গভর্নেন্স চর্চার সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, যাতে আকস্মিক কড়াকড়ি বাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি না করে।

Ad space (reserved)

২০১২ সালের নোটিফিকেশন, কিছু শর্ত বাধ্যতামূলক হলো

২০০৬ সালের গাইডলাইন কার্যকর হওয়ার পর নিয়ন্ত্রকরা লক্ষ্য করেন যে অনেক কোম্পানি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো উপেক্ষা করছে, শুধু ব্যাখ্যা দিয়েই দায় সারছে। এই অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালে একটি নতুন নোটিফিকেশনের মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত, যেমন স্বাধীন পরিচালক নিয়োগ এবং অডিট কমিটি গঠন, অনেকটাই বাধ্যতামূলক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাংলাদেশে কর্পোরেট গভর্নেন্সের সময়রেখা
SEC প্রতিষ্ঠা: 1993 SEC প্রতিষ্ঠা শেয়ারবাজার ধস: 1996 শেয়ারবাজার ধস ২০০৬ গাইডলাইন: 2006 ২০০৬ গাইডলাইন ২০১২ নোটিফিকেশন: 2012 ২০১২ নোটিফিকেশন BSEC কোড ২০১৮: 2018 BSEC কোড ২০১৮
Category Value
SEC প্রতিষ্ঠা 1,993
শেয়ারবাজার ধস 1,996
২০০৬ গাইডলাইন 2,006
২০১২ নোটিফিকেশন 2,012
BSEC কোড ২০১৮ 2,018

২০১৮ সালের BSEC কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড, পূর্ণাঙ্গ কাঠামো

অবশেষে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন একটি পূর্ণাঙ্গ, বিস্তারিত কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড জারি করে, যা আগের নোটিফিকেশনগুলোকে প্রতিস্থাপিত করে। এই কোড নিয়ে বিস্তারিত পাবেন আমাদের কর্পোরেট গভর্নেন্স কী তা নিয়ে মূল লেখায়। এই কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো একটি তুলনামূলক পরিপক্ব, আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি গভর্নেন্স কাঠামো পায়।

A quick story

একজন কল্পিত কোম্পানি সচিবের কথা ভাবুন, যিনি ২০০৬ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। ২০০৬ সালে তিনি বার্ষিক প্রতিবেদনে একটি সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদ যোগ করতেন গভর্নেন্স নিয়ে। ২০১৮ সালে এসে তাকে পুরো একটি বিস্তারিত কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট তৈরি করতে হয়, নির্দিষ্ট ফরম্যাটে, যেখানে প্রতিটি শর্ত আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হয়। এই পরিবর্তনই বাংলাদেশের গভর্নেন্স সংস্কৃতির পরিপক্বতার একটি প্রতিফলন।

এই যাত্রা থেকে কী শিক্ষা পাওয়া যায়

বাংলাদেশের এই দুই দশকের যাত্রা দেখায় যে গভর্নেন্স সংস্কার একদিনে হয় না, এটি ধাপে ধাপে, বাজারের প্রস্তুতি অনুযায়ী এগোনো একটি প্রক্রিয়া। সংকট থেকে সচেতনতা, সচেতনতা থেকে স্বেচ্ছামূলক গাইডলাইন, আর স্বেচ্ছামূলক গাইডলাইন থেকে বাধ্যতামূলক কোড, এই ধারাবাহিকতা অনেকটাই যুক্তরাজ্যের Cadbury Report পরবর্তী বিবর্তনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশের গভর্নেন্স যাত্রা ২০১৮ সালেই শেষ হয়ে গেছে?

মোটেও না। ২০১৮ সালের কোড ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, শেষ বিন্দু নয়। বাস্তবায়নের গভীরতা, তদারকির কার্যকারিতা এবং ডিজিটাল যুগের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে, যা নিয়ে আলোচনা পাবেন ডিজিটাল যুগে কর্পোরেট গভর্নেন্সের রূপান্তর শীর্ষক লেখায়।

উপসংহার

১৯৯৬-৯৭ সালের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শুরু হয়ে ২০১৮ সালের একটি পরিণত কোডে পৌঁছানো, বাংলাদেশের এই যাত্রা প্রমাণ করে যে সংকটও কখনো কখনো দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ খুলে দেয়। এই অঞ্চলের বাকি দেশগুলোর অভিজ্ঞতার সাথে তুলনা করতে পড়ুন দক্ষিণ এশিয়ায় কর্পোরেট গভর্নেন্সের বিকাশ শীর্ষক লেখাটি।

FAQ

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

১৯৯৩ সালে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইনের মাধ্যমে, যা বর্তমানে BSEC নামে পরিচিত।

বাংলাদেশে প্রথম কর্পোরেট গভর্নেন্স গাইডলাইন কবে আসে?

২০০৬ সালে, একটি নোটিফিকেশনের মাধ্যমে, যা মূলত কমপ্লাই অর এক্সপ্লেইন ভিত্তিতে তৈরি ছিল।

২০১২ সালের নোটিফিকেশনে কী পরিবর্তন আসে?

স্বাধীন পরিচালক নিয়োগ এবং অডিট কমিটি গঠনের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত অনেকটাই বাধ্যতামূলক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

২০১৮ সালের BSEC কোড কি আগের নোটিফিকেশনগুলো বাতিল করে দেয়?

হ্যাঁ, ২০১৮ সালের পূর্ণাঙ্গ কোড আগের গাইডলাইন ও নোটিফিকেশনগুলোকে প্রতিস্থাপিত করে একটি সুসংহত কাঠামো তৈরি করে।

Related Articles